রাজবাড়ীতে দের বছর ধরে বন্ধ মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র। কোন চিকিৎসক না থাকায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গর্ভবতী মায়েরা।  - BSP TV 24

শিরোনাম

রাজবাড়ীতে দের বছর ধরে বন্ধ মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র। কোন চিকিৎসক না থাকায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গর্ভবতী মায়েরা। 

দের বছর ধরে বন্ধ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। রাজবাড়ী শহরের বেড়াডাঙ্গায় অবস্থিত রাজবাড়ী মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র দেড় বছর চিকিৎক জায়গা শূন্য । গত ৮ই মার্চ ২০২১ সালে চিকিৎক ডাঃ গোপাল সূত্র ধর বদলির পর এখন পর্যন্ত কোন চিকিৎক আসেন নি। দীর্ঘদিন যাবত রাজবাড়ীর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) না থাকায় জরুরী প্রসূতি সেবা বন্ধ রয়েছে। গর্ভবতী মায়েরা স্বাভাবিক প্রসবসেবা গ্রহনের জন্য আসছেন না মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে। আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে একশ থেকে দেড়শ গর্ভবতীকে এএনসি পিএনসি প্রদান করা হতো সেখানে ৫ থেকে ১০ জনের সেবা দেওয়াও সম্ভব হচ্ছেনা। রাজবাড়ী জেলার অন্যান্য উপজেলা থেকে সিএস বিএ ও পরিবার কল্যান পরিদর্শকগণ জটিল ও গর্ভবতী মায়েদের মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে রেফার করতে পারছেন না। ফলে রাজবাড়ী জেলার সদর মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। রাজবাড়ী মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র এখন যেন প্রাণহীন একটা ভবন মাত্র। আগে যেখানে চিকিৎস্যক ,নার্স ও রোগীতে পরিপূর্ন থাকতো ,সেখানে এখন গর্ভবতী মায়েদের সেবা নিতে দেখা যায় না।তিন তলা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের রয়েছে উন্নত অপারেশন থিয়েটার। ১০ শয্যা বিশিষ্ট আলাদা ২টি রুম ও উন্নত বেড এবং রোগীদের বিনোদনের জন্য রয়েছে টিভি’র ব্যাবস্থা। আলাদা ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার সহ সকল অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যাবস্থা। মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে গর্ভবতী রোগীদের বিনা মূল্যে অপারেশন ও ঔষদ সহ সকল সুবিধা থাকা স্বত্বেও চিকিৎক না থাকায় বে সরকারি ক্লিনিকে গিয়ে রোগীর স্বজনদের গুণতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। যা একটি মধ্যবিত্ত বা গরীব পরিবারের রোগী স্বজনদের জন্য আলাদা একটা বোঝা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে , চিকিৎকের রুমের তালা বন্ধ ,২য় তালায় যেখানে গর্ববতী রোগীরা ভর্তি থাকেন সেই বেড গুলো ফাঁকা । জরাজীর্ণ রুমে দীর্ঘদিন বন্ধ সিলিং ফ্যানের গোড়ায় মাকড়সার বাসা । একাই বসে ছিলেন ক্লিনিকের আয়া ফিরোজা । অনেক বছর ধরে তিনি কাজ করছেন এই মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে । আক্ষেপ প্রকাশ করে ফিরোজা বলেন রোগী নাই ,মানুষ জন নাই তাই ভালো লাগেনা । শুধু শুধু বসে থাকা। কবে যে ডাক্তার আসবে ? এক প্রশ্নের জবাবে আয়া ফিরোজা বলেন, এখানে ডক্তার না থাকায় রোগীরা আসেনা। সেদিন একজন আসছিলো রোগী ,তার তি নম্বর বাচ্চা । ডাক্তার নাই এজন্য সে চলে গেছে,কারন যদি নরমাল ডেলিভারি না হয় আবার ডাক্তারও নাই ,যদি কোন সমস্যা হয় ! মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের ভিজিটর ফিরোজা বলেন, সেই যে গোপাল স্যার গেলো আর কোন ডাক্তার আসে নাই। ডাক্তার না থাকায় রোগীরাও আসে না। দুইএকটা যা ই আসে পেশার মেপে চেকাপ করে চলে যায়। একজন ফার্মাসিস্ট কে দেখা গেছে কয়েকজন বৃদ্ধ মহিলাদের চিকিৎসা দিতে। ফার্মাসিস্ট অনিতা বলেন,ডাক্তার নাই রোগী তেমন আসেনা । আর যারা আসে গরীব মানুষ সে সকল রোগীদের সামান্য জ্বরের বড়ি ,ব্যাথার বড়ি দেই । ‘চিকিৎস্যক না থাকায় নষ্ট হচ্ছে অপারেশন থিয়েটারের সরঞ্জাম, প্রয়োজনী জিনিস সহ লাখ টাকার ঔষদ। এ বিষয়ে কথা হয় জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপ পরিচালক গোলাম মোঃ আজম বলেন, ডা. গোপাল চন্দ্র সূত্র ধর বদলীর পর থেকে চিকিৎসক শূন্যতায় রয়েছে রাজবাড়ী মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র। চিকিৎসা সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। তারপরও আমরা এফডব্লিভি দিয়ে কিছুটা কাজ চালাচ্ছি ,গত মাসে ৮ জনের নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। আমরা আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি । তিনি আরও বলেন , অপারেশনের জন্য যে ঔষদ গুলো আমাদের কেনা ছিলো সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রায় দুই লাখ টাকার ইনজেকশন আইটেম ডেট ওভার হয়েগেলে সে গুলো আমাদের ফেলেদিতেই হবে। দীর্ঘদিন কেন নেই কোন চিকিৎসক এ প্রশ্নের উত্তর জানতে অনুসন্ধানে জানা যায়, এই মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে এমওএমসিপি ও এনেস্থিয়া অভিজ্ঞ ডাঃ নিয়ামত উল্লাহ ও বদলী হওয়া চিকিৎক গোপাল চন্দ্র সূত্র ধরের সাথে কোন বনিবনা ছিলোনা। দীর্ঘ ২৪ বছর তিনি একই ক্লিনিকে চাকরি করছেন ডাঃ নিয়ামত উল্লাহ। শিশু রোগী দেখতেন ও এনেস্থেসিয়া দিতেন অপারেশনের রোগীদের। এমওএমসিপি ও এনেস্থিয়া অভিজ্ঞ নিয়ামত উল্লাহ স্বপরিবারে ক্লিনিকের সরকারি কোয়ার্টারের নিচ তলায় ও চিকিৎক গোপাল চন্দ্র সূত্র ধর থাকতেন উপর তলায়। চাকুরিতে থাকা কালীন মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের গাইনি ডাঃ গোপাল সূত্র ধর ছুটিতে ভারতে বেড়াতে গেলে ,সেই সুজোগে গোপাল সূত্র ধরের রুমের সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলেন ডাঃ নিয়ামত উল্লাহ । দুই ডাক্তারের মধ্যে দীর্ঘদীন চলে এ সমস্যা। পরে ডাঃ গোপাল সূত্র ধর বদলী হলে রাজবাড়ী মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে এ পর্যন্ত আর কোন ডাক্তার আসে নাই । ডাক্তার গোপাল সুত্র ধরের পর পর ই বদলি করা হয় মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের এফ এম এ শাজমীমা আক্তার কে । ‘’কিন্ত এ পর্যন্ত মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে কোন চিকিৎসক না আশায় সেবা বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ গর্ভবতী মায়েরা।