মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এস এম জহিরুল ইসলাম - BSP TV 24

শিরোনাম

মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এস এম জহিরুল ইসলাম

মহাসড়কে যানচলাচল, সড়ক দুর্ঘটনা, চুরি, ডাকাতি, দখলবাজী, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ইত্যাদি প্রতিদিনের আলোচ্য বিষয়। মহাসড়ক নিয়ে প্রতিনিয়তই গণমাধ্যমের কোন না কোন বিষয় সংবাদ প্রকাশিত হয়। বেশির ভাগ সময়ই গণমাধ্যমের শিরোনাম হিসাবে স্থান পায় এই মহাসড়ক। জাতীয়, আঞ্চলিক গণমাধ্যম সব সময় মহাসড়কের সকল প্রকার সংবাদ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করে থাকে। মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে ২০০৫ সালে হাইওয়ে পুলিশ গঠন করা হয়। পাশাপাশি মহাসড়কে কাজ করছে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যানজটমুক্ত মহাসড়ক প্রতিষ্ঠা মহাসড়িেক দুর্ঘটনারোধ চুরি, ডাকাতি প্রতিরোধ করে একটি নিরাপদ মহাসড়ক প্রতিষ্ঠা করতে হাইওয়ে পুলিশকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সেই থেকে হাইওয়ে পুলিশ নিষ্ঠার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করে আসছে। হাইওয়ে পুলিশ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মহাসড়ককে নিরাপদ রাখার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও নানা আলোচনা সমালোচনা রয়েছে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে। হাইওয়ে পুলিশেরও রয়েছে নানা রকম সংকট। তারমধ্যে জনবল সংকট, পরিবহন সংকট, ডাম্পিং সংকট অন্যতম। এসব সংকটের মধ্যদিয়েও দায়িত্ব পালনে সফলতা দেখাচ্ছে হাইওয়ে পুলিশ। তবে হাইওয়ে পুলিশকে মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করচে। সেই মহাসড়ককে দুই পাশের যে বিশাল জায়গা এর বেশীরভাগ জায়গার মালিক সরকারের সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন। এই জায়গাগুলো কিছু অংশ পরিত্যক্ত, কিছু অংশ সড়ক ও জনপথ বিভাগ সরকারী নিয়মনুযায়ী লিজ দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করছে। আরেকটি বৃহৎ অংশ স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে থাকে। প্রভাবশালীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে সেখানে অবৈধ স্থাপনা, যেমন-মার্কেট, বহুতল আবাসিক ভবন, টং দোকান, সেমিপাকা মার্কেট, তুলে তা নিজেরা ব্যবহার করে অথবা ভাড়া দিয়ে সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। কথিত রয়েছে-সড়ক ও জনপথ বিভাগের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা, কর্মচারী এই অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত। দখলবাজী ও অবৈধ স্থাপনার জন্য মহাসড়কে দুর্ঘটনা অনেকাংশেই বেড়ে যায়। হাইওয়ে পুলিশ ও মহাসড়ক আইনে নির্দেশনা রয়েছে যে, মহাসড়কের দুপাশে ৩৩ ফুট জায়গা রেখে নিজস্ব জমিতে যে কোন স্থাপনা গড়ে তুলতে পারবে। কিন্তু কেউই মানছে না এই আইন। ভুক্তভোগী ও সড়ক নিরাপত্তা গবেষকদের ভাষ্য মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট সকলকেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।মহাসড়ক নিরাপত্তাহীনতার আরেকটি কারণ হিসেবে যে বিষয়টি সব সময় আলোচনায় থাকে সে বিষয়টি হল, ব্যাটারী চালিত যানবাহন, যেমন ব্যাটারী চালিত রিক্সা, ভ্যান, থ্রি ইটলার, ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা ইত্যাদি মহাসড়কে এগুলো চলাচলের বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট থেকে নির্দেশনা রয়েছে। মহাসড়কে ব্যাটারী চালিত যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এগুলো মিটার রোড অর্থাৎ গলি ভিতর ও গ্রামের রাস্তা দিয়ে চলাচল করবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ব্যাটারী চালিতা যানবাহন আটকের কথা থাকলেও তার বাস্তবায়ন লক্ষ্য করা যায় না। এছাড়াও আমদানী বন্ধ হচ্ছে না ব্যাটারী চালিতা এসব যানবাহন তৈরীর সরঞ্জাম।মাঝখানে কিছু অসাধু পুলিশ এসব আটকের নামে নিচ্ছে অনৈতিক সুবিধা। মহাসড়কে দেদারচ্ছে এগুলো চলাচল করলেও অজ্ঞাত কারণে হাইওয়ে পুলিশ সব সময়ই থাকে অন্ধের ভূমিকা। এগুলো বন্ধের জন্য কিছু সংগঠন আন্দোলন করলেও অজ্ঞাত কারণে কিছুদিন পর তারা চুপ হয়ে যায়। পরিবহন মালিক শ্রমিকদের মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে আন্তরিক হতে হবে। তাদের সব সময় আইন মেনে পরিবহন ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। যেগুলো আইনে নিষেধ আছে সেগুলো পরিহার করতে হবে। মোট কথা সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মহাসড়কে নিরাপদ রেখে জীবনকেও নিরাপদ রাখতে হবে।তবে মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে শুধু হাইওয়ে পুলিশ বা ট্রাফিক পুলিশের উপর দায়িত্ব চালিয়ে দিলে হবে না। আমাদের সকলেরই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আইন মেনে চলতে হবে। দুর্নীতিকে সব সময় মন থেকে পরিহার করতে হবে। মহাসড়কে মোটর সাইকেল আরোহীকে হেলমেট ব্যবহার করতে হবে। সাবধানে গাড়ী চালাতে হবে। মোটরযান আইন মেনে সবাইকে মহাসড়কে চলাচল করতে হবে। যে বিষয়টি আইনে নিষেধ রয়েছে, সেই বিষয়টির প্রতি আমাদের সজাগ থাকতে হবে। সব সময় প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। নিজে সচেতন হতে হবে, পাশাপাশি সমাজকে সচেতন করতে হবে। হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশকে সচেতনতামূলক কর্মসূচির পরিধি আর বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশিল সমাজ সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এগিয়ে আসতে হবে।

পুলিশকে যেভাবে কমিউনিটি পুলিশ ও বিট পুলিশ সহযোগিতা করে সেইভাবে একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। মহাসড়ক দুর্ঘটনা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের পদক্ষেপ নিতে হবে। মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে পরিবহনের মালিক, শ্রমিক, চালক পাশাপাশি যাত্রীদেরকেও সজাগ থাকতে হবে। মূল কথা-সকলের ঐক্যবদ্ধ চেষ্টায় আমরা একটি নিরাপদ মহাসড়ক উপহার পেতে পারি।

লেখক : এস এম জহিরুল ইসলাম, চেয়ারম্যান-রুর‌্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)