নাগেশ্বরীতে গোপনে টিপসই নেওয়ার অভিযোগ - BSP TV 24

শিরোনাম

নাগেশ্বরীতে গোপনে টিপসই নেওয়ার অভিযোগ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে গোপনে টিপসই নেওয়ার ৪ ঘন্টা পর অসুস্থ বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে নাগেশ্বরীর পৌরসভার জোগেন চন্দ্রের বিরুদ্ধে ।

জানাগেছে উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের খামার হাসনাবাদ সেনপাড়ার শ্রী রবিন্দ্র সরকার ২/৩মাস পূর্বে হার্ড স্ট্রোক হয়। অসুস্থ হয়ে বিছানায় পরে যায় এবং বাক শক্তি হারিয়ে ফেলে।

গতকাল ২জানুয়ারী রবিবার শ্রী রবিন্দ্র সরকারের স্ত্রী ললিতা রানী এবং পুত্র বধু অঞ্জনা রানী শারিরীক পরিচর্যা করতে গিয়ে দেখতে পান শশুরের ডান ও বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলীতে টিপ নেওয়ার স্টাম্প প্যাড কালির চিহ্ন রয়েছে।

এটা দেখতে পেয়ে পরিবারের সকলেই বিচলিত হয়ে পরে। কে এমন কাজ করতে পারে সন্দেহ হলে তারা শ্রী জোগেন চন্দ্র (দলিল লেখক) কে সন্দেহ করেন।

মৃতের স্ত্রী জানায় দুপুর ২ঘটিকার সময় পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সেনপাড়া গ্রামের দলিল লেখক জোগেন চন্দ্র আমার স্বামীকে দেখার জন্য জোরাজুরি করে।

আমার স্বামী ঘুমে আছে এবং কথাও বলতে পারে না। এ কথা বলা সত্বেও সে আমাদের অগোচরে রোগির ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে।

আবার আমাদের অজান্তেই চলে যায়। পরবর্তিতে রোগির ঘরে প্রবেশ করে আমার স্বামীর বৃদ্ধাঙ্গুলীতে টিপ নেওয়ার স্টাম্প প্যাড কালির চিহ্ন দেখতে পেয়ে তাকে খোজাখুজি করে পাওয়া গেলে সে টিপ নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে।

কেন সে সবার চোখ ফাকি দিয়ে অসুস্থ রবীন্দ্র সরকারের ঘরে প্রবেশ করল এ প্রশ্ন করলে, সে কোন সদুত্তর না দিয়ে দ্রুত চলে যায়। এতে পরিবারের আতঙ্ক বেড়ে যায়।

তাৎক্ষনিকভাবে মৃতের পুত্র বধু অঞ্জনা রানী বিকাল ৩ ঘটিকার সময় অভিযোগ করার জন্য নাগেশ্বরী থানায় আসে। অভিযোগ লেখার সময়ই জানতে পারে তার শ্বশুর রবীন্দ্র সরকারের মুত্যু হয়েছে।

মৃতের একমাত্র বিধবা পুত্র বধু অঞ্জনা রানী ঘটনার বিষয়ে ৩জানুয়ারী নাগেশ্বরী থানায় একটি লিখিত ডায়েরী করেন। সে বলেন,স্বামী ও শ্বশুর হারা আমাদের পরিবারের ও সম্পত্তির কোন ক্ষতি কেউ যেন করতে না পারে এজন্য প্রতিবেশি সহ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।

মৃতের ভাই রাজেন্দ্র বলেন, শ্রী জোগেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত মূলক বিচার চাই। এ বিষয়ে হাসানাবাদ ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান সরকার জানায়, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করছে মৃত্যের পরিবার।

এ ছাড়াও উক্ত পরিবারের সম্পত্বি যাতে কেউ ক্ষতি সাধন করেত না পারে সে ব‍্যাপারে আমরা সচেতন আছি।

টিপ নেওয়ার বিষয়ে জানতে দলিল লেখক শ্রী জোগেন চন্দ্রের মোবাইল ফোনে কয়েকবার ফোন করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তার বাড়ীতে গিয়েও দেখা পাওয়া যায়নি তাকে।