দেশে কাঁচা মরিচের কেজি ২৫০ টাকা - BSP TV 24

শিরোনাম

দেশে কাঁচা মরিচের কেজি ২৫০ টাকা

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে লাগাম নেই। পাঁচ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি চালে ২-৫ ও এক দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচে ৩০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে একই মরিচ প্রতি কেজি ২৫০-৩০০ টাকায় কিনতে দেখা গেছে। এক দিনের ব্যবধানে স্থলবন্দর হিলিতে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ।দুদিন আগেও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৬০-১৭০ টাকায়। হঠাৎ করে কারণ ছাড়াই কাঁচা মরিচ কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার কয়েক কিলোমিটার ব্যবধানের বাজারগুলোতে ২০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হতেও দেখা গেছে।

রাজধানী ঢাকার বাজারের মরিচ বিক্রেতাদের দাবি, দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে। মরিচসহ সবজি উৎপাদনকারী অনেক নিচু এলাকা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে বিভিন্ন সবজিগাছের ক্ষতি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় মরিচের সরবরাহ কম থাকায় বাজারে মরিচে দাম ঊর্ধ্বমুখী। অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে।গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কাঁচা বাজার, হাতিরপুল, মহাখালী ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়।   মোহাম্মদপুরের সবজি ব্যবসায়ী আবুল বাশার বলেন, ‘তিন দিন আগে পাঁচ কেজির পাল্লা কিনেছিলাম ৮৫০ টাকা দিয়ে। গতকাল সকালে মরিচ কিনতে হয়েছে প্রতিপাল্লা ৯৫০ টাকায়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই মরিচের পাল্লা বিক্রি হতে দেখা গেছে ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকায়। পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে। এখন প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।’হাতিরপুলের এক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, ‘পাইকারি বাজারে মরিচের দাম বাড়ার ফলে খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়েছে। প্রতিপাল্লা মরিচ কেনা পড়ে ৯০০ টাকার ওপর। খুচরাপর্যায়ে আসতে আসতে খরচসহ প্রতি কেজি মরিচের দাম পড়ে ১৯৫ টাকা। ক্রেতাপর্যায়ে যেতে যেতে আরও ৫-১০ টাকা বাড়ে। সব খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায় বা তার একটু বেশিতে।’মরিচ ছাড়াও কাঁচা বাজারগুলোতে প্রায় সব ধরনের সবজির কেজি অন্তত ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। কাঁকরোল, উস্তা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, বরবটির মতো সবজি ক্রেতাদের ৫০-৭০ টাকা কেজিতে কিনতে দেখা গেছে। এসব সবজি গত সপ্তাহেও কেজিতে ৪৫-৫০ টাকার মধ্যে ছিল বলে জানিয়েছেন বাজারে আসা ক্রেতারা।গত সপ্তাহে কাঁকরোল ৫০, উস্তা ৭০-৭৫, বরবটি ৬০, কাঁচকলা ৩০, মিষ্টি কুমড়া ৫০, গাজর ১৪০, শালগম ১২০, লাউ প্রতিটি ৫০-৬০, বরবটি ৭০, পটোল ৬০, আলু ২৮-৩০, পেঁয়াজ ৪৫ ও টমেটো ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।বাজার করতে আসা গৃহিণী আয়েশা বেগম বলেন, ‘আমাদের আর কিছু জিজ্ঞেস করার বাকি আছে? আপনারা লিখেও কি পরিবর্তন আনতে পেরেছেন? আমাদের স্বপ্নের দেশে এখন প্রতিদিন দুঃস্বপ্ন হানা দেয়। যে দ্রব্যের দাম একবার বাড়ে তা আর কমার ইতিহাস দেখিনি। এটাই আমাদের নিয়তি।’৫০ কেজির বস্তার সব ধরনের চালে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। খুচরাপর্যায়ে এসব চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৫ টাকা। মানভেদে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮-৭২ টাকায়, বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৩, নাজিরশাইল ৭৪ থেকে ৮২ এবং পোলাওর চাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

বিভি/এনএম

×

ksrm